ছোট বেলার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি – ১ম পর্ব

ছোট বেলা ভাবতাম বড়দের কত মজা, যা খুশি করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখছি সম্পূর্ণ উল্টো, যতই বড় হচ্ছি ততই মজা হারিয়ে ফেলছি। এখন মনে হয় ছোট বেলা ই অনেক ভালো ছিল, কেন বড় হলাম।

ক্লাস এইট পর্যন্ত আমি মামা বাড়ি থাকতাম, আর আমার মামারা ছিলেন জয়েন্ট ফ্যামিলির। যদিও আমি তাদেরকে জয়েন্ট ফ্যামিলিতে দেখিনি, তারপরও তারা জয়েন্ট ফ্যামিলির মতই বাস করতেন। বাড়িতে আমরা সমবয়সী ছিলাম প্রায় ৫-৬ জন এবং আমরা একই স্কুলে, একই ক্লাসে পড়তাম।

মামাদের ভালোবাসা এবং করা শাসনের মধ্যে অনেক মজাতেই ছিলাম। যদিও শাসনের পর মামার চোদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করতাম, তারপরও ভালো ছিলাম। সকালে নাস্তা করে সবাই একসাথে ৩ মাইল হেটে স্কুলে যাওয়া এবং হই-হুল্লোড় করে স্কুল মাথায় করে রাখার মধ্যে অন্য এক ধরনের মজা আছে, যা এখনকার দিনে একটু দুর্লভই। সবচেয়ে মজার বিষয় হল সন্ধায় বাড়ির সব ছেলেমেয়েদের নিয়ে একসাথে পড়তে বসা।পড়ার চেয়ে দুষ্টুমিই হতো বেশী। বিশাল এক ঘরের মেঝেতে খেজুর পাতার পাটি বিছিয়ে বসতো আমাদের পড়ার বা দুষ্টুমির আসর। সারাদিন কে কি করেছে এবং পরবর্তী দিনের পরিকল্পনা এই খেজুর পাতার পাটিতে বসেই আলোচনা করা হতো।

আমার এক মামা ছিলেন হাই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক, উনাকে আমরা সবাই যমের মতো ভয় পেতাম। মুলত উনিই ছিলেন আমাদের ভয়ের প্রধান উৎস। উনি যেহেতু শিক্ষক ছিলেন, তাই উনিই আমার হোম টিউটরের দায়িত্ব পালন করতেন। উনি কিছুক্ষণ পর পর এসে দেখে যেতেন যে আমরা কি করছি, ফলে আমরা গল্প করা অবস্থায় অনেক সময় ধরা পরে যেতাম। আর ধরা পরলে কারো পিঠের এবং হাতের অবস্থা স্বাভাবিক থাকতো না। আমি ছিঁচকে কাদুনে ছিলাম, একটা মার খেলেই কেঁদে দিতাম। ফলে আমার মারের পরিমানও কমে যেতো। পরে অবশ্য আমার মামাতো ভায়েরা বলতে শুরু করলো যে, মার কম খাওয়ার জন্য এটাও আমার একটা দুষ্টুমি।

যাই হোক, এই সমস্যটার একটা সমাধান আমরা বের করেছিলাম। পালা করে করে আমরা পড়ার ঘরে আসার রাস্তার দিকে নজর রাখতাম। এটিতে কাজ হয়েছিলো, বেশীদিন স্থায়ী হয়নি।

পোষ্টটি ভালো লাগলে, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ