বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীদের ফুল টাইম চাকরি করা অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ। বাংলাদেশের বেশীরভাগ স্বামীরা সংসারের কাজ করতে অভ্যস্ত নয়। ফলে, কোন নারী চাকরি করলেও, তাকে সংসারের সকল কাজ করতে হয়। এই কারনেই, বাংলাদেশের নারীরা চাকরি করে না বা তাকে করতে দেয়া হয় না। কিন্তু তারা ইচ্ছে করলেই অনায়াসেই কিছু সময় ফ্রিল্যান্সিং করে ভালো আয় করতে পারে।

আমার মতে ফ্রিল্যান্সিং নারীদের জন্য অত্যন্ত পারফেক্ট একটি পেশা হতে পারে। আজ আমি নারীদের ফ্রিল্যান্সিং পেশার কিছু সুবিধা নিয়ে আলোচনা করবো।

১. অফিস টাইম নেইঃ

ফ্রিল্যান্সিং এ কোন অফিস টাইম মেইন্টেইন করতে হয় না। ফলে নারীরা ইচ্ছামতো সময় বের করে কাজ শেষ করে ফেলতে পারবে। এমনকি কাজ করতে করতে ফ্যামিলিকেও সময় দিতে পারবে তারা। তবে হ্যা, এজন্য ভেবেচিন্তে কাজ নিতে হবে।

২. কাজ বেছে নেয়ার সুযোগঃ

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে প্রচুর কাজ রয়েছে, সেগুলি থেকে ফ্রিল্যান্সাররা ইচ্ছামতো কাজ বাছাই করে নিতে পারে। তাই নারীরা তাদের সুবিধামতো কাজ বাছাই করে নিতে পারবে।

৩. শখ কে পেশা হিসেবে নেয়াঃ

কারো কারো অনেক শখ থাকে, যেমন আর্ট, রাইটিং, ইত্যাদি। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নারীরা এই শখের কাজগুলি করেও ভালো একটা ইনকাম করতে পারবে।

৪. নিজের খরচ নিজেই বহন করাঃ

নিজের খরচ নিজেই বহন করার মতো মজার আর কিছুই নেই। ফ্রিল্যান্সিং করে একজন নারী স্বাবলম্বী হতে পারবে খুব সহজেই। ফলে হাত খরচের জন্য কারো কাছে হাত পাততে হবে না। এমনকি, সংসারে প্রচুর সাহায্যও করতে পারবে।

৫. কাজ করার স্বাধীনতাঃ

ফ্রিল্যান্সিং এ নিজের ইচ্ছামতো সময় এবং কাজের ধরন পছন্দ করে নেয়া যায়। ফলে নারীরা তার সুবিধামত সময়, কাজ, অন্যান্য বিষয়গুলি নির্ধারণ করে নিতে পারবে।

৬. পরিবারের সাথে সময়ঃ

ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, আপনি বাড়িতে বসেই কাজ করবেন, ফলে সন্তানসহ পরিবারের সকলের সাথে অনেক সময় ব্যয় করতে পারবেন। আর নারীরা সেটাই সবসময় করে থাকে। তাই নারীরা ফ্রিল্যান্সিং করে সংসার এবং পেশা দুটোতেই সমানতালে চালিয়ে যেতে পারবে।

বাংলাদেশের নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া অনেক বেশী দরকার। নারীরা যদি অর্থনীতিতে পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে অবদান রাখতে পারে তবেই আমাদের দেশের অর্থনীতি উন্নতি করবে। আর সেটা ফ্রিল্যান্সিং করে নারীরা অনায়াসেই করতে পারবে। এজন্য দরকার সঠিক গাইড লাইন এবং উন্নত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা।