আলাদীন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যে সে বাংলাদেশেই বেড়াতে যাবে। দৈত্য একটু একটু অমত ছিল, হাজার হোক ইন্ডিয়ার পাশের দেশ কেমন না জানি হয়। আগেই বলেছি তার একটা ভীতিকর অভিজ্ঞতা আছে ইন্ডিয়ায়। যাই হোক, সেতো আর আলাদীনের মুখের উপর না করতে পারে না। সে যে তার মনিব।

এদিকে জেসমিন তো মহা খুশী। অনেকদিন পরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হচ্ছে। তাই মনের খুশীতে সকাল থেকেই সাজতে বসে গেছে। এতদিন পরে বেড়াতে বের হচ্ছে আর ভালো মত সাজবে না, তা কি কখনো হয়। এমনিতেও ও ভালো করেই সাজে, কিন্তু এমনি এমনি সাজা আর কোন উপলক্ষে সাজার মধ্যে পার্থক্য আছে না?

আর আলাদীন? আলাদীন খালি মুচকি মুচকি হাসছে। কেন হাসছে সে নিজেও জানে না। তবে তার মনের এক কোন থেকে একটা খুশির হাওয়া বইছে। কতদিন পরে ঘর থেকে বের হতে পারবে। সে এডভাঞ্চার প্রিয় মানুষ কিন্তু ঘর থেকে বের হওয়া হয় অনেকদিন ধরে।

সব গোছ-গাছ শেষ, এবার রওনা হবার পালা। দুপুরে রওনা হবার কথা থাকলেও জেসমিনের জন্য হল না। তার নাকি তখনো লিপ্সটিক দেয়া হয় নি। এই জন্য অবশ্য আলাদীনের কাছ থেকে একটা ধমক উপহার পেয়েছে। কিন্তু পরিনতি কি হবে জানলে আলাদীন ধমকটা দিতো না। আলাদীনের ধমক খেয়ে জেসমিন কেদে কেদে চোখের কাজল আর মুখের মেকাপ এক করে দিয়েছিলো। তারপর আবার নতুন করে মেকাপ নিতে নিতেই দুপুর গড়িয়ে বিকেল। অবশ্য এক হিসেবে ভালই হয়েছে, এখন রোদের আচ নেই, তাই তাদের যাত্রা আরামদায়ক ই হবে। তাদের যেতে হবে দৈত্যের পিঠে চরে, সেখানে তো আর ছাদ নেই।

অবশেষে যাত্রা শুরু। তারা দৈত্যের পিঠে চড়েই যাচ্ছে, আলাদীন অবশ্য উরুন্ত কার্পেটে করে যেতে চেয়েছিল কিন্তু জেসমিন রাজি হয়নি। তো আর কি করা এতদিন পরে ভ্রমনে বেরোচ্ছে দুজন তো দুইভাবে যেতে পারে না। একসাথে গল্প করতে করতে যাওয়ার মজাই আলাদা। তাছারা দৈত্যের পিঠে চরে যাওয়ার একটা সুবিধা আছে, দৈত্য সোজা পথে না গিয়ে নানা সুন্দর সুন্দর যায়গ দেখাতে দেখাতে নিয়ে যায়। এই যেমন একটু আগে একটা যায়গার উপর দিয়ে এলো ওরা, সেই জায়গায় সে নাকি তার দাদার সাথে অনেকদিন এসেছে। সেখানে নাকি বিশাল জঙ্গল ছিল, এখন সেটা মরুভুমি। আলাদীনের অবশ্য এটা বিশ্বাস হয়নি, মরুভুমির মধ্যে কোন যায়গার সে আর তার দাদা খেলা করতো সেটা এত চট করে বলে দেয়া সম্ভব না। তার উপর যায়গাটা আগে ছিল জঙ্গল। আবার কে জানে হয়তো দৈত্যদের বিশেষ ক্ষমতা আছে স্থান মনে রাখার।

জেসমিন আনমনে কি যেন ভাবছে। আলাদিন জিজ্ঞেস করতেই বলল, মনটা কেমন জানি করছে। মনে হচ্ছে এবারও একটা না একটা খারাপ কিছু ঘটবেই। আলাদিন মুচকি হেসে বলল, এ আর নতুন কি? প্রত্যেকবারই তো কিছু না কিছু ঘটছেই। এ নিয়ে মন খারাপ করো না, দেখো এবারে অনেক মজা হবে।

জেসমিন তেমন একটা ভরসা পেলো না। তবুও মুঝে বলল, তাই যেন হয়।

দৈত্য এয়ার হোস্টেসদের মতো ঘোষণা করলো, প্রায় চলে এসেছি। আর মাত্র ঘন্টা খানেকের পথ। এই যে এখন বাংলাদেশের ভিতরে ঢুকছি। আমরা নামবো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে। তারপর সেখান থেকে বাংলাদেশের অন্যান্য যায়গায় ঘুরতে বেরুবো।

আলাদীন বিরক্ত হয়ে দৈত্যকে একটা ধমক দিল, চুপ করো এখন। ভ্রমনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবো আমি, তুমি না।

দৈত্য থেমে গেল, ওকে, অল রাইট।

আলাদীন বুঝতে পারলো দৈত্য অভিমান করেছে আর দৈত্য অভিমান করে কি কি করতে পারে তা ওর ভালো করেই জানা আছে। তাই বলল, আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি যখন সবকিছু চেন, এবারের ভ্রমনের দায়িত্বটা তোমাকেই দিলাম।

দৈত্য কিছু বলল না, শুধু তার মুখটা দুই কান পর্যন্ত লম্বা হয়ে গেলো।