সামনে ৩০শে এপ্রিল বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন। ফ্রিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে সিম রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা একটা হট টপিক, এই পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন করা কি উচিৎ?

সবাই একটা কথাই বলছে যে, ফ্রিঙ্গারপ্রিন্টের অপব্যবহার হতে পারে। হ্যাঁ, কিছুটা রিস্ক আছেই। কিন্তু আমরা যতটা ভাবছি ব্যপারটা কি আসলেই এতোটা রিস্কি?

আমিও প্রথমে প্রাইভেসি নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম যে, এটা নিয়ে এতো চিন্তার কিছুই নেই। ফিঙ্গারপ্রিন্ট কি আমরা নতুন দিচ্ছি? আগে আমরা কি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতাম না?

আমরা আগে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তো দিতামই সাথে সিগনেচারও দিতাম, তখন আমরা কোন রকম প্রতিবাদ জানাই নি। সিগনেচার কি কম গুরুত্বপূর্ণ? অনেকে বলছেন যে, আপনার নামে ব্যাঙ্ক থেকে লোণ নেওয়া হবে আপনি জানতেও পারবেন না। হাস্যকর কথা, লোণ নিতে কি ফ্রিঙ্গারপ্রিন্ট লাগে? নাকি সিগনেচার লাগে? এই পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন করে আমরা সিগনেচারের অপব্যবহার এর হাত থেকে কি মুক্তি পেলাম না?

এখন আসি ফ্রিঙ্গারপ্রিটের অপব্যবহারের প্রসঙ্গে। আগেও আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতাম এখনও দিচ্ছি, এতে অসুবিধার কি আছে? হ্যাঁ, অনেকে বলবেন এখন ফ্রিঙ্গারপ্রিন্টের ডিজিটাল কপি নেয়া হচ্ছে আর আগে নেওয়া হতো হার্ড কপি। যারা এই ভাবনাটা ভাবছেন তাদের কে বলি, আপনি কি মনে করেন আগে যেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হতো ওগুলি কোন কাজের না? হার্ড কপি ফিঙ্গারপ্রিন্ট গুলি কি শুধুমাত্র ফরমালিটি? ধরুন কথাও খুন করে আপনাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে তখন কি আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্টের ডিজিটাল কপি দেখিয়ে বলা হবে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেছে?

আপনাকে ফাসাতে হলে, আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর মাধ্যমে আপনার আঙ্গুলের রেপ্লিকা বানাতে হবে তারপর ওটা দিয়ে ছাপ দিয়ে বলতে হবে যে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেছে। আপনি কি মনে করেন ডিজিটাল কপি থেকে রেপ্লিকা বানানো যত সহজ, হার্ড কপি থেকে বানানো ততই কঠিন?

দুই কপি থেকেই আঙ্গুলের রেপ্লিকা বানানো খুবই জটিল প্রক্রিয়া এবং কোনটা থেকে কোনটা সহজ না। আর জেনে রাখুন ফিঙ্গারপ্রিন্ট হার্ড কপি থেকে ডিজিটাল কপিতে রুপান্তর করা এমন কোন কঠিক বিষয় না।

আসল কথা হল, ফিঙ্গারপ্রিন্টের অপব্যবহারের রিস্ক আগেও ছিল এখনও আছে। তাহলে কেন আমরা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন নিয়ে এতো মাথা ঘামাচ্ছি?