কি নাম রাখবে বল?

কিসের নাম?

আনিকা রেগে উঠলো, কিসের নাম মানে? তোমার সাথে কথা ছিলনা আজকে আমরা আমাদের বাচ্চার নাম ঠিক করবো?

মাসুদের চোখে-মুখে কোন ভাবান্তর হল না। শুধু নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, ও কথা ছিল নাকি। মাসুদ আজকাল আর কিছুতেই আনন্দ পায় না। এক সময় এই ঝিলের ধারে বসে আনিকার সাথে কতো আনন্দ করেছে। কতো হাসাহাসি, কতো ছেলে মানুষী। এখন আর ছেলে মানুষী করতে ভালো লাগে না। হয়তো এতদিন ছেলে মানুষী করার বয়স ছিল কিন্তু এখন আর নেই। কথাটা ভেবেই মনে মনে চমকে উঠলো মাসুদ। হঠাত করে একবছরের মধ্যে এতো বদলে গেলো কিভাবে সে।

মাসুদের এই নির্লিপ্ততা দেখে আনিকা রেগে উঠলো। চুপ করে আছ কেন? ইদানিং দেখছি তুমি সব বিষয়েই আমাকে এড়িয়ে চলছ। তুমি কি আমাকে আগের মতো ভালোবাসো না?

মাসুদও এই কথাটাই চিন্তা করছিলো। সে কি আনিকাকে আগের মতো ভালোবাসে না? আগে একদিন আনিকাকে না দেখলে তার ঘুম হতো না। প্রতিঘন্টায় কমপক্ষে একবার ফোন করতো। কিন্তু তার কি যেন হয়েছে। আগের মতো আনিকাকে দেখার জন্য মন উতলা হয় না। ফোন করতেও ইচ্ছে করে না। এই তো গতমাসে টানা ৫ দিন আনিকাকে ফোন করে নি। শেষে আনিকা মাসুদের বাসায় হাজির হয়ে কান্না শুরু করে দিয়েছিল।

তুমি কি জানো, এই পাচটা দিন আমি শুধু মোবাইলের দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।

মাসুদ কোন কথা বলে নি। আগে এই কথা শুনলে হয়তো হেসে উঠে বলতো, তাহলে ধরে নিবো এই পাঁচ দিন খাওয়া, গোসল, ঘুম কিছুই করো নি? । আনিকা নির্ঘাত রেগে উঠত। কিন্তু বেশিক্ষন রেগে থাকতে পারতো না। মানুষ রাগেই তো রাগ ভুলে যাওয়ার জন্য।

এই বলতো তোমার কি হয়েছে? কোন সমস্যা? । আনিকার কন্ঠে আগের মতো রাগ নেই। তার কন্ঠে ভয়।

মাসুদ যেন ঘুম থেকে উঠলো। অহ, কিছুই না, আজকে শরীরটা ভালো লাগছে না। মাথাটা কেমন জানি করছে।

আনিকা কাছে সরে এল, মাথাটা টিপে দেই?

মাসুদ দাড়িয়ে পরল, নাহ লাগবে না। রুমে গিয়ে একটা ঘুম দিলেই ঠিক হয়ে যাবে। কাল দেখা হবে, আমি এখন যাই।

এ কথা বলেই মাসুদ হন হন করে চলে গেল। একবারও পিছনে ফিরে তাকাল না।

আনিকা একদৃষ্টিতে মাসুদের চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে রইল। তার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। মানুষটা হঠাত করে এমন হয়ে গেল কেন। আগে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার পরও উঠতে চাইতো না। আর এখন এসেই যাই যাই শুরু করে। আনিকা আর কান্না আটকিয়ে রাখতে পারছে না।

আনিকা কাঁদছে। তার কান্না থামাতে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে, কাদতে কাদতে সারা জীবন এখানে পার করে দিতে পারবে।

ঝলমলে রোদের মধ্যে হঠাত বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। বৃষ্টির পানি আনিকার চোখের পানি ধুয়ে দিচ্ছে। কে জানে হয়তো এটা প্রকৃতির কোন ছেলে মানুষী।