রাজশাহীর আম, বিশেষত্ব এবং কেন এটি সেরা?

আমি যদি বলি “আম“, তাহলে আপনাদের কোন শব্দটা মনে পরবে সবার আগে? আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত যে, আপনার মনে সবার প্রথম “রাজশাহী” শব্দটাই এসেছে। এটাই স্বাভাবিক, কারন আমের জন্যই বিখ্যাত এই অঞ্চলটি। আম তো হয় সারা বাংলাদেশেই, কিন্তু রাজশাহীর আমের মতো কি আর হয়?

অনেকেই বলতে পারেন যে, আমের শাদ তো হয় আমের জাত জাত অনুসারে। তাহলে রাজশাহীর আম নিয়ে এতো মাতামাতি করি কেন আমরা? আপনার কোথা আংশিক ঠিক। তবে আমি যতদুর জানি, আমের স্বাদে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে মাটি। একেক এলাকার মাটি একেক স্বাদের আমের জন্ম দেয়। ধরুন, আপনি একই জাতের ২টি আমের চারা একটি লাগালেন রংপুরে, আর একটি লাগালেন সিলেটে। তাহলে কি হবে? যখন গাছটি থেকে ফল অর্থাৎ আম পাবেন, তখন দেখা যাবে যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে দুইটি গাছের আমের স্বাদের মধ্যে।

এখন একইভাবে যদি ৫ টি চারা রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে লাগান, তাহলে সবশেষে দেখা যাবে যে রাজশাহীতেই আপনি সর্বউৎকৃষ্ট আমটি পেয়েছেন। কারন? এর কারন হল রাজশাহীর মাটি। আমের জন্য রাজশাহীর মাটিই সেরা যা অন্য কথাও দেখা যায় না।

আচ্ছা, অনেক জ্ঞান দিলাম। এবার বলি আসলেই কি এই থিওরিটা সত্য? একটা জিনিশ ভাবুন, যা রটে তা একটু হলেও ঘটে। কোন কোন সময় তো পুরোপুরিই ঘটে। আপনি কি কখনো কাউকে এই থিউরি শুনিয়ে, রাজশাহীর আমের গুগগান করতে শুনেছেন? না শুনেননি। কারন, রাজশাহীর আমের গুন-কীর্তন করার জন্য কোন থিউরির প্রয়োজন নেই। একবার খেলেই আপনি বুঝবেন যে, কেন এটি সেরা।

আম, আম একটি জনপ্রিয় ফল বাংলাদেশে। আম চিনে না, এরকম বাচ্চাও নেই বাংলাদেশে। ধুর কি লিখছি এগুলি আমি।

আম সাধারনত জ্যৈষ্ঠ মাসে পাকে, আর তখনই সারা দেশের ঘরে ঘরে ছরাতে থাকে আমের মিস্টি ঘন্ধ। আচ্ছা, এই আম গুলি কোথা থেকে আসে? কোথা থেকে আবার, রাজশাহী ও এর আশেপাশের এলাকা থেকেই সারা বাংলাদেশে আম সাপ্লাই করা হয়। অনেকটা এমন বলা চলে যে, রাজশাহীর আম যদি কোন বছর মহামারি লাগে তাহলে অই বছর আর কাউকে আম খেতে হবে না। হুম, এটা সিরিয়াস কোন কথা নয় যে আপনাকে এটা নিয়ে তর্ক করতে হবে। কিন্তু এই ব্যাপারটা আমাদের মেন নিতেই হবে যে, বাংলাদেশে আমের মুল উৎসই হচ্ছে রাজশাহী।

আপনারা নিশ্চই, আমাকে বকা দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। সব আমই যদি রাজশাহী থেকে আসে, তাহলে আর রাজশাহীর আম, রাজশাহীর আম বলে চেচাচ্ছি কেন? হুম, আমিও এটাই ভাবছি। আপনি যে আজকে বাজার থেকে আমটা কিনে নিয়ে গেছেন, সেটা অবশ্যই রাজশাহী থেকে এসেছে। কিন্তু, রাজশাহী থাকার সময় যেমন ছিল তেমন কি আছে?

নাহ, নেই। গাছ থেকে পারা আম আপনার বাসা পর্যন্ত যেতে কতখানি প্রসেসিং সাইকেল পার করেছে এই আম জানেন? আর এতোখানি সময় পরও আমকে এতো সতেজভাবে কিভাবে আপনার কাছে পৌঁছে দেয়া কিভাবে সম্ভব হচ্ছে, একটু ভেবে দেখেছেন কি?

প্রিজারভেটিভ, বা আপনার সরাসরি ক্যামিক্যাল্টির নামও বলে থাকি “ফরমালিন“। কি আতকে উঠলেন? আতকে উঠার কিছুই নেই, এটাতো সবাই জানে যে, বর্তমানে এক কেজি ফলের মধ্যে ফরমালিনই থাকে হাফ কেজি।

কিন্তু, এটা মজা করার বিশয় নয়। আপনি কি জানেন যে, আপনার শখ করে কিনে আনা ফলের মধ্যে লুকিয়ে আছে আপনার সন্তানকেই হত্যা করার বিষ। তাহলে কি দাঁড়ালো? আপনি টাকা দিয়ে বিষ কিনে এনে খাওয়াচ্ছেন আপনার সন্তানকে।

তাহলে আপনিই বলুন, যে রাজশাহীর আমের এতো গুনিগান শুনলেন সেই আমই খাওয়া বাদ দিতে হবে? অবশ্যই বাদ দিতে হবে। কারন আপনি যেই আম খাচ্ছেন, সেটাকে আর রাজশাহীর আম বলা যাবে না। গাছ থেকে ব্যবসায়ীর হাতে পরা মাত্রই আমটি তার সতীত্ব হারিয়েছে। তখন আর এটাকে রাজশাহীর আম বলা যাবে না, আপনি ইচ্ছে করলে শুধু আম বলতে পারেন। কিন্তু কখনই রাজশাহীর আম বলা যাবে না।

আমি এতক্ষণ ধরে এটাই বুঝাতে চাচ্ছি যে, যা খাবেন বুঝে শুনে খাবেন। সাস্থের উপরে তো কিছুই নেই, তাই না?

আচ্ছা, তাহলে কি কোনোভাবেই ফরমালিন মুক্ত আম পাওয়া যাবে না? কেন যাবে না? সব ব্যাবসায়ি কি আর খারাপ? অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা সম্পূর্ণ ফরমালিন মুক্ত আমই বাজারজাত করেন। কিন্তু আমি আগেই বলেছি, আম আপনার বাসায় কয়েকজনের হাত ঘুরে পৌছায়। সবাই তো আর ভালো হবে না, তাই না?

সাধারণত, লোকাল ব্যবসায়ীর কাছে থাকা পর্যন্ত আম ভালই থাকে। এরপরেই এর চরম দুরবস্থা হয়। তাই আমি সাজেশন দিবো চেস্টা করবেন কোন লোকাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আম কিনতে। আপনার আত্মীয়-সজন যদি কেউ রাজশাহী এলাকায় থাকে, তাহলে তাদের মাধ্যমে কিনতে পারেন।

কিন্তু আমারতো, কোন রিলেটিভ নেই অই এলাকায়। তাহলে কি করবো? হুম, ভাবনার বিষয়, কিন্তু উপায় আপনাদেরও আছে। আমরা আপকামিং ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস করছি, তাই না? আর বাংলাদেশে যে হারে ই-কমার্স বাড়ছে, এখন আপনি বাশায় বসেই সবকিছু কেনাকাটা করতে পারেন। তবে আম কেন নয়?

আপনি অনলাইনেও আম কিনতে পারেন। কিন্তু যেহেতু দেখে কিঞ্ছেন না, সেহেতু তো একটু বুঝে শুনেই কিনতে হবে, তাই না? আমি ইদান্নগ দেখছি বেশ কিছু ব্যবসায়ী আম বিক্রি করছে অনলাইনে। আমার বিশ্বাস তারা বেশিরভাগই লোকাল ব্যবসায়ী। আর লোকাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আম কিনলে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, আমি এটা আগেই বলেছি। কিন্তু সবাই আবার ভালো নাও হতে পারেন।

তাই, অনলাইনে কেনার আগে কেউ কিনেছে এমন কারো কাছ থেকে অদের সম্পরকে একটি ফিডব্যাক নিন। আমি সাধারনত আম অনলাইন থেকে কিনেই খাই। আমার কোন আম গাছ নেই, তাই কিনেই খেতে হয়। আর কিনেই যখন খাবো, ভালো জিনশই খাই। আমার দেখা সবচেয়ে পুরনো এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে অনলাইনে আম বিক্রি করে রাজশাহীর আম ডট কম। আমি এখান থেকেই আম কিনি সবসময়। রাজশাহীর আম ডট কম সম্পর্কে আমার একটি ছোট্ট রিভিউ এখানে

পোষ্টটি ভালো লাগলে, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুনঃ