এইচটিটিপি/৩ ওয়েব প্রটোকলের একটি বড়সড় আপডেট। ২০১৫ সালে এইচটিটিপি/২ রিলিজ হওয়ার কয়েকবছরের মধ্যেই প্রটোকলের পরবর্তি ভার্শন এইচটিটিপি/৩ চলে এসেছে। যেখানে এইচটিটিপি এর ভার্শন ১.১ চলছে সেই ১৯৯০ সাল থেকে। কেনো এই আপডেট, নতুন কি আছে এটাতে, কি বেনিফিট পাওয়া যাবে এই নতুন প্রটোকলে?

HTTP/3 কি?

HTTP হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের একটি ট্রান্সফার প্রোটকল। সাধারনত আমরা যখন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করি, তখন HTTP প্রটোকল বা টেকনোলজির মাধ্যমে সার্ভার থেকে ওয়েবসাইটের তথ্য গুলি আমাদের ব্রাউজারে আসে। আর HTTP/3 হলো HTTP এর ভার্শন ৩।

HTTP

HTTP/3 মুলত গুগলের কুইক (QUIC) প্রটোকল বেজড। কুইক ডেভেলপ করা হয়েছিলো একসাথে মাল্টিপল ডাটা চ্যানেল একসাথে ট্রান্সফার করার জন্য। পরে কুইক টেকনোলজিকে HTTP/3 তে রুপান্তরিত করা হয়। সিঙ্গেল কানেকশনে একসাথে একাধিক ডাটা চ্যানেল ট্রান্সমিশনের ফলে HTTP/3 তে লেটেন্সি ইস্যু কমে গেছে এবং ডাটা ট্রান্সফারও দ্রুত গতির হয়েছে।

HTTP/1 এবং HTTP/2 কম্পিউটারের TCP পোর্ট ব্যবহার করলেও QUIC এবং HTTP/3 ব্যবহার করে UDP পোর্ট। HTTP/3 এর সাথে আসলে HTTP/2 এর খুব বেশী পার্থক্য নেই, অনেকটা বলা যায় যে HTTP/2 এর সাথে QUIC কে মিশিয়ে যা রান্না করা হয়েছে সেটাই HTTP/3।

HTTP/3 এর সুবিধা কি?

HTTP/3 এর সবচেয়ে সুবিধা হলো কানেকশন এবং ডাটা ট্রান্সপোর্টে ল্যাটেন্সি কমে গেছে। QUIC এর কারনে কানেকশন হ্যান্ডশেক (সার্ভারের সাথে ব্রাউজারের ডাটা আদান-প্রদানের আগে একটা সমাযোতা হয়, সেটাকে হ্যান্ডশেক বলে) টাইম কমে গেছে, প্রথম হ্যান্ডশেকের পর উইদাউট হ্যান্ডশেকে HTTP/3 ডাটা ট্রান্সপোর্ট করার অনুমতি দিয়ে দেয়।

HTTP/3 এর আরেকটা সুবিধা হলো কানেকশন চেঞ্জ হলেও সেশন চেঞ্জ হবে না। ধরুন ইউজার ওয়াইফাই এ কাজ করতে করতে মোবাইল ডাটাতে সুইচ করলো, নরমালি এতে কানেকশন UUID চেঞ্জ হয়ে যায়। কিন্তু HTTP/3 তে ইউইউআইডি চেঞ্জ না হয়ে একই কেনশন আইডিতে রিজিউম করবে।

HTTP/3 হেড-অব-লাইন-ব্লকিং সমস্যার দারুন সমাধান এনেছে। ধরুন একটা ওয়েবসাইটে ৫ টা জাভাস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরি লোড হতে হবে, তারপরে সাইটটি রান করবে। এখন ব্রাউজারকে একটা একটা করে ফাইল ডাউনলোড রিকুয়েস্ট পাঠাতে হবে এবং একটার পর একটা ডাউনলোড হবে, টাইম কনজিউমিং একটা ব্যাপার। অবশ্য HTTP/2 তে অনেকগুলা ফাইলের রিকুয়েস্ট পাঠানোর ফিচার দেয়া হয়েছে (যাকে মাল্টিপ্লেক্সিং বলে) এবং ফাইলগুলি সিঙ্গেল কানেকশনে প্যারালালি ডাউনলোড হয়। কিন্তু এখানে সমস্যা হলো, যদি প্যাকেট লস হয় বা ডাটা ট্রান্সপোর্ট হতে বেশী সময় লাগে তাহলে ব্রাউজারকে কানেকশন সম্পুর্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। HTTP/3 তে সুবিধা হলো, QUIC প্রোটোকল মাল্টিপল স্ট্রিম প্রসেস করতে পারে, কোন একটা স্ট্রিম বেশী সময় নিলে বা প্যাকেট লস হলেও অন্যান্য স্ট্রিমগুলি কন্টিনিউ করতে পারে।

ইউজার-এন্ডে রিয়েল চেঞ্জ এনেছে HTTP/3, যা HTTP/2 তে তেমন লক্ষ করা যায় নি। মডার্ন ইন্টারনেটের গতিকে ইউটিলাইজ করে ওয়েবসাইটের গতিকে বৃদ্ধি করতে HTTP/3 এর বিকল্প নেই।

কোন ওয়েবসাইটে HTTP/3 আছে?

HTTP/3 এর উদাহরন দিলে সবার আগে গুগল মামার নাম আসে। QUIC টেকনোলজি যেহেতু গুগলেরই ডেভেলপ করা জিনিস টেকনিক্যালি বলা যায় গুগল.কম HTTP/3 রিলিজের আগে থেকে HTTP/3 ব্যবহার করে।

এদিকে ছোট ওয়েবসাইট আমার এই ব্লগটাও HTTP/3 এনাবল্ড। আপনার ব্রাউজার HTTP/3 সাপোর্ট করলে আপনি HTTP/3 দিয়েই আমার ওয়েবসাইটে ঢুকেছেন।

তাছাড়া কোন ওয়েবসাইট HTTP/3 এনাবল্ড/সাপোর্টেড কিনা জানতে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে টেস্ট করতে পারবেন।

তাছাড়া এখন অনেক হোস্টিং প্রোভাইডারই তাদের সার্ভার HTTP/3 সাপোর্টেড করে ফেলেছে। স্পেশালি যারা লাইটস্পিড সার্ভার ব্যবহার করেন, তাদের ওয়েবসাইট HTTP/3 সাপোর্টেড হয়ে গেছে অলরেডি। প্রয়োজনে আপনার হোস্টিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে এনশিউর হয়ে নিতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটে HTTP/3 এনাবল করা আছে কিনা।

দুর্বল ইন্টারনেট কানেকশন

আপনার ইন্টারনেটের ধীরগতির জন্য পেজটি লোড হতে কিছুক্ষণ বেশী সময় লাগছে।