আমরা ছোট বেলায় বাবা মায়ের সংস্পর্শে বেড়ে উঠি। কিন্তু সময়ের আবর্তনে আমরা শিশু থেকে পূর্ণ বয়স্ক মানুষে রূপান্তরিত হই। প্রাইমারিতে শুরু করা পড়াশুনা শেষ হয়ে যায় গ্রাজুয়েশনে এসে। এরপরই আমাদেরকে নেমে পড়তে হয় ক্যারিয়ার গড়ার সংগ্রামে। অনেকভাবেই ক্যারিয়ার গড়া যায়। ব্যবসা, চাকরি কিংবা ফ্রিল্যান্সার আপনার যা খুশি সেটা নিয়েই ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। অনেকেই যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও পর্যাপ্ত গাইডলাইনের অভাবে সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন না। সঠিক গাইডলাইন পেলে একজন সাধারণ মানের মেধাবীও ভাল একটি ক্যারিয়ার গড়তে পারবে।

ক্যারিয়ার হিসাবে ব্যবসা:

প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবসা বাণিজ্যের প্রচলন ছিল। মূলত ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই অর্থনীতি গড়ে উঠে। অনেকে ব্যবসাকে খারাপ চোখে দেখেন। কিন্তু এই ব্যবসায়ীরাই পৃথিবীতে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীদের কল্যাণেই এখন অনেকে স্মার্ট জব করে। তাই ক্যারিয়ার হিসাবে ব্যবসা বেশ ভাল অপশন। এখানে নিজের যোগ্যতার পূর্ণ প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চাকরির মত ব্যবসা শুরু করতে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। আপনি চাইলেই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ব্যবসা করে নিজে যেমন ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন তেমন কয়েকজনের ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করতে পারবেন। ব্যবসাতে কারও ফুট ফরমায়েশ শুনতে হবে না। কেউ আপনাকে ঝাড়ি দিবে না। এখানে আপনি নিজেই নিজের বস। যতটুকু শ্রম, মেধা বিনিয়োগ করবেন ততটুকু ফল পাবেন। ব্যবসাতে চাকরির মত ধরা বাঁধা নিয়মে অফিস করতে হয় না। আপনি সম্পূর্ণ স্বাধীন। যখন ইচ্ছা কাজ করবেন, যখন ইচ্ছা করবেন না।

ব্যবসা করার যোগ্যতা:

সবাই ব্যবসা করতে পারে না। ব্যবসা করার জন্য কিছু যোগ্যতা থাকতে হয়। যেমন বেসিক আইন-কানুন জানা, পুঁজি থাকা, কম্পিটিটর এনালাইসিস করা, আইডিয়া চয়েজ করা, মার্কেট রিসার্চ ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে। ব্যবসায় প্রবেশ করার পর আপনি ধীরে ধীরে এ বিষয়গুলোতে উন্নতি করতে পারবেন। যত বেশি অভিজ্ঞ হবেন তত বেশি ঝুঁকি কমে আসবে।

ব্যবসার ধরণ:

দেশে অনেক ধরণের ব্যবসাই প্রচলিত আছে। উৎপাদনশীল ব্যবসা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, বৃহৎ শিল্প, আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা, পণ্য সরবারহ, সার্ভিস, অনলাইন ব্যবসা, আইটি ব্যবসা আরও অনেক ধরণের ব্যবসা আছে। আপনার যেটা ভাল লাগে সেটা নিয়েই আগাতে পারেন। সবচেয়ে ভাল হয় আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড রিলেটেড ব্যবসা করলে। এটা আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যেহেতু এ বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। প্রতিটি ব্যবসার ধরণে গেলে আবার হাজার হাজার আইডিয়া পাবেন। সেখান থেকে আপনার উপযোগী আইডিয়া পছন্দ করুন। শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ আইডিয়াগুলো এড়িয়ে চলুন। যদিও ঝুঁকিপূর্ণ আইডিয়াতে প্রফিটও বেশি হয়ে থাকে। সবচেয়ে ভাল হয় লজিস্টিক বা সার্ভিস ব্যবসা করতে পারলে। এ দুটোতে বিনিয়োগ করার পরপরই রিটার্ন আসতে থাকে।

ক্যারিয়ার হিসাবে ব্যবসা কতটা নিরাপদ:

ব্যবসাতে ঝুঁকি আছে এ কারণে অনেকে ক্যারিয়ার হিসাব ব্যবসাকে নিরাপদ মনে করেন না। এ ধারণা একবারেই ঠিক নয়। সঠিকভাবে ব্যবসা করতে পারলে লস হয় না। বুঝে শুনে বিনিয়োগ করতে হয়। নিরাপদ ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ব্যবসাই চাকরির চেয়ে উত্তম। আপনি পোস্ট গ্রাজুয়েট করে ২৫-৩০ হাজার সেলারির একটা জব নিলেন। মোটামুটি কয়েক বছর আপনার বেতন একই থাকবে। আপনি দুর্নীতিতে না জড়ালে আয় বাড়ানোর আর কোন সুযোগ নাই। কিন্তু ব্যবসাতে শুরুতে হয়ত আপনার আয় কমে হবে। পরে দিন দিন সেটা বাড়তেই থাকবে। এক সময় দেখবেন ব্যবসাতে আপনার আয় চাকুরে বন্ধুদের থেকে কয়েকগুণ বেশি হয়ে গেছে। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে অধিক টাকা সঞ্চয় করতে হলে ব্যবসার বিকল্প নাই। অধিক টাকা মানেই নিরাপদ। চাকরি করে কখনই এত টাকা আয় করা সম্ভব না। পৃথিবীর তাবৎ সব ধনী ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের শীর্ষ সব ধনীই ব্যবসায়ী। শীর্ষ ১০০০ ধনীর মাঝেও কোন চাকরিজীবী নাই। এ থেকে বুঝা যায় চাকরির চেয়ে ব্যবসাই অধিক নিরাপদ ক্যারিয়ার।

স্বাধীন পেশা:

ব্যবসা আবার স্বাধীন পেশাও। এখানে ধরা বাঁধা নিয়মে ডিউটি করতে হয় না। আপনার যখন ইচ্ছা অফিস করবেন, ফ্যাক্টরি ভিজিট করবেন। যখন মন চাইবে ঘুরে বেড়াবেন।

আমি নিজেও একজন উদ্যোক্তা। আমার কাছে ক্যারিয়ার হিসাবে চাকরির চেয়ে ব্যবসাই উত্তম। ব্যবসা শুরু করার গাইডলাইন পেতে আমার এ লেখাটি পড়তে পারেন।

আর্টিকেলটি লিখেছেন অতিথি লেখকঃ মাসুদ সরকার রানা। মাসুদ রানা একজন প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার। তিনি বিভিন্ন ব্লগে পত্রিকায় বাংলা ও ইংরেজি আর্টিকেল লিখেন।